স্বাস্থ্য

কাজু বাদামের উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম, ক্ষতিকর দিক [এখানে ক্লিক করে জানুন]

দানাদার খাবারের মধ্যে কাজুবাদাম এর জুড়ি নেই। কাজুবাদাম চিবিয়ে বা রান্না করে খাওয়া যায়। কাজুবাদাম এত পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায় যা প্রায় রান্না করা মাংস পাওয়া প্রোটিনের সমান। কাজু বাদাম প্রচুর পরিমাণে

প্রোটিনসহ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ একটি বীজ। এতসব পুষ্টি উপাদানের কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। আজকের পোস্টে আমরা কাজু বাদামের উপকারিতা, কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও কাজুবাদাম

এর ক্ষতিকারক দিক নিয়ে আলোচনা করব। কাজু বাদাম প্রচুর পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। একাউন্স লবনহীন কাজুবাদামের রয়েছে -ক্যালোরি 157 গ্রাম ,প্রোটিন 5 গ্রাম, ফ্যাট 12 গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট 9 গ্রাম, ফাইবার 1 গ্রাম,

তামা দৈনিক মানের 67 %, ম্যাগনেসিয়াম ডিভি এর 20%, ম্যাঙ্গানিজ ডিভি এর 20%, দস্তা 15 %, ফসফরাস ডিভি 13%, আয়রন ডিভি এর 11 %, ভিটামিন বি 6 ডিভির 7%, ভিটামিন কে ডিভির 8%।

কাজুবাদাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। টিউমার প্রতিরোধের কাজুবাদাম এর ভূমিকা অপরিসীম, এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কাজু বাদামের ম্যাগনেসিয়াম ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।

যাদের ব্লাড প্রেসার রয়েছে তাদের খাদ্য তালিকায় কাজুবাদাম রাখতে পারেন। সুস্থ হার্টের জন্য কাজুবাদাম এর বিকল্প নেই। কাজুবাদামে এক ধরনের মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড থাকে যারা নাম ওলিসিক।

ওলিসিক শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। কাজু বাদামে প্রচুর পরিমানের কপারের উপস্থিতি রয়েছে। কপার চুলের গোড়া শক্ত করার পাশাপাশি চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

এছাড়াও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে কাজুবাদাম এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিক্ষার্থীদের মেধা শক্তি বৃদ্ধি এবং বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকেরা কাজু বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

কাজুবাদামে দেহে শক্তির মূল উপাদান কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। আমাদের শরীরে এটিকে ভেঙে গ্লুকোজের রূপান্তর করে। আমাদের দেহের কোষ টিস্যু এবং অঙ্গ গুলির জন্য শক্তির প্রধান উৎস।

খালি পেটে কাজু বাদাম খেলে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দ্রুত গ্লুকোজকে কাজ করতে বাধ্য করে। কাজু বাদামে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম রয়েছে যা  হারের বিকাশ ও বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

কাজু বাদাম খাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক অবস্থা ভেদে কিছু নিয়ম মেনে চললে এর পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পাওয়া যেতে পারে।  2 থেকে কম বছরের ছোট বাচ্চাদের কাজু বাদাম খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে,

এটি তাদের গলায় আটকে যেতে পারে। এজন্য তাদের খাবারের সাথে কাজুবাদাম মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। দুই বছরের বড় বাচ্চারা একেবারে 15 থেকে 20 টি কাজু বাদাম খেতে পারে।

প্রতিবারের যদি 30 থেকে 50 টি বাদাম খায় তবে তাদের প্রতি সপ্তাহে তিনবার কাজু বাদাম খেতে দেওয়া উচিত। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রতিদিন 10 গ্রাম কাজু বাদাম খাওয়া ভালো যা 30 থেকে 65 টি বাদাম এর সমতুল্য

যদি বেশি খাওয়া হয় তাহলে সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিনবার খাওয়া উচিত। বয়স্কদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র 50 গ্রাম বা 30  কাজু বাদাম খাওয়া উচিত যা তাদের জন্য যথেষ্ট। বাদামে থাকার ট্যানিন হজমের সমস্যা তৈরি করে

তাই যাদের ট্যানিনএর সমস্যা আছে তাদের উচিত কাজু বাদাম ভিজিয়ে রেখে ট্যানিন দূর করে খাওয়া। কাজু বাদামের সোডিয়ামের পরিমাণ পাওয়া যায়, অতিরিক্ত পরিমাণে কাজুবাদাম শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়াতে পারে

যা পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগের কারণ হতে পারে। এটি কিডনির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কাজু বাদামে ক্যালরির পরিমাণ বেশি। যদিও ক্যালোরি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তবে

অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণের ফলে ওজন বাড়তে পারে। কাজু বাদামের ফাইবার রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তবে আকারে অত্যাধিক ফাইবার থাকার কারণে বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফুলে গ্যাস হতে পারে।

কাজু বাদামে পটাশিয়াম রয়েছে, বেশি পরিমাণের কাজু খাওয়ার ফলে পটাশিয়াম আমাদের শরীরের পৌঁছায় যার কারণে হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা এবং কিডনির ব্যর্থতার তার মত অবস্থা হতে পারে।

Bangla Master

Bangla Master ওয়েবসাইট এর পক্ষ থেকে আপনাদেরকে স্বাগতম। এই ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা বিষয়ক তথ্য আপনি জানতে পারবেন। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত সকল আপডেট তথ্য এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত দেয়া হয়ে থাকে। আপনাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি বিষয়ক তথ্যগুলো আমরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছি।
Back to top button